আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল: বিশ্বকাপ ফুটবলের রুদ্ধশ্বাস লড়াই
মাঠের ফুটবল আর মাঠের বাইরের পুরনো রেষারেষি— দুই মিলিয়ে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল ম্যাচটি এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটালান্টা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নামছে দুই দল।
গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে, অন্যদিকে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে শিরোপাখরায় ভোগা ইংল্যান্ড চাইছে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট পেতে।
মেসির শেষ বিশ্বকাপ ঘিরে বাড়তি আবেগ
আর্জেন্টিনা শিবিরের মূল ভরসার নাম এখনো লিওনেল মেসি। আগের আসরে দলকে চ্যাম্পিয়ন করার পর এবারও দুর্দান্ত ফর্মে আছেন তিনি— এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে করেছেন ৮ গোল, যা তাকে গোল্ডেন বুট জয়ের অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে। এই আসরেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন তিনি ২১ গোল নিয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, এটিই হতে যাচ্ছে তার শেষ বিশ্বকাপ, ফলে সতীর্থরা মরিয়া থাকবেন তাকে আরেকবার শিরোপা এনে দিতে।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগে হ্যারি কেইনের সঙ্গী জুড বেলিংহ্যাম। দু’জন মিলে দলের ১৩ গোলের ১২টিই করেছেন, যা এক জুটির সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। টানা দুই নকআউট ম্যাচে জোড়া গোল করে বেলিংহ্যাম পৌঁছে গেছেন মারাদোনার পাশে।
দুই দলের শক্তি ও দুর্বলতা
আর্জেন্টিনার মধ্যমাঠে দে পল, এনজো ফের্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার ও পারেদেসের সমন্বয় প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে সক্ষম। তবে রক্ষণে রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ভুলত্রুটি এবারের আসরে দলটিকে বেশ কয়েকবার বিপদে ফেলেছে।
ইংল্যান্ডের শক্তির জায়গা মানসিক দৃঢ়তা ও শক্তিশালী বদলি বেঞ্চ। কোচ টমাস টুখেলের অধীনে দলটি প্রতিটি কঠিন ম্যাচ থেকেই ফিরে এসেছে জয় নিয়ে। ডেকলান রাইস মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ রাখছেন, আর গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের কিছুটা নড়বড়ে পারফরম্যান্স দলটির একমাত্র দুশ্চিন্তার কারণ।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের এই দ্বৈরথের শিকড় প্রায় দুইশ বছরের পুরনো, জড়িয়ে আছে ফকল্যান্ড যুদ্ধের তিক্ত স্মৃতিও। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে মারাদোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ আজও এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতীক হয়ে আছে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচবারের দেখায় ইংল্যান্ড এগিয়ে ৩-২ ব্যবধানে।
জয়ী দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেনের, যারা প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে বিদায় করে দিয়েছে।

