জাতীয়

গাজী নজরুল ইসলাম ভাইরাল ভিডিও: এবার বললেন ‘জিম্মি করে টাকা আদায়’

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর জেরে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি এখন দাবি করছেন, তাকে ও তার স্ত্রীকে রাজধানীর মগবাজারের একটি অফিসে ‘জিম্মি’ করে টাকা আদায় করা হয়েছিল, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

ভিডিওটি প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর একটি পক্ষ দাবি করেছিল, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি করা একটি বানোয়াট কনটেন্ট। তবে ফ্যাক্ট-চেক প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ভিডিওটি সম্পাদিত বা কৃত্রিম নয়, বরং প্রকৃত ঘটনার দৃশ্য।

পরবর্তীতে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভিডিওতে দেখা নারী সংসদ সদস্যের দ্বিতীয় স্ত্রী। নজরুল ইসলাম নিজেও পরে একই দাবি করে বিষয়টি স্বীকার করেন।

গাড়িচালক ও আত্মীয়ের বিরুদ্ধে জিম্মি করার অভিযোগ

মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের ১৩ জুলাই তিনি তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ব্যবসায়িক কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থানের একপর্যায়ে তার গাড়িচালক ও স্ত্রীর মামা পরিচয়ে থাকা এক ব্যক্তি গাড়ি দেখার অজুহাতে বাইরে বের হন এবং পরে আরও কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন।

তার দাবি অনুযায়ী, এই দলটি তাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করে এবং পরবর্তীতে ভাড়া করা গাড়িটিও আটকে রেখে আরও অর্থ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি এই ঘটনার পেছনে পারিবারিক পূর্বশত্রুতাকে দায়ী করেছেন।

ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, চলতি বছরের ১৭ জুন পারিবারিক সিদ্ধান্তে এবং তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই দ্বিতীয় বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে, ফলে এটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বলে প্রচার করা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

সমালোচনার মুখে বিভিন্ন প্রশ্ন

এত বড় অভিযোগের পরও কেন তিনি সঙ্গে সঙ্গে থানায় অভিযোগ বা আইনি ব্যবস্থা নেননি, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তার পোস্টে অনেকে মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, প্রথমে এআই তত্ত্ব ব্যর্থ হওয়ার পর এখন নতুন ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। আবার কেউ কেউ তাকে সমর্থন জানিয়েও মন্তব্য করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে।

c24newsbd.com

c24newsbd.com

মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, সি২৪ নিউজ বিডি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক। সঠিক সময়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে নিয়োজিত একজন মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং গ্রাফিক ডিজাইনার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *