আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি: প্রশংসায় পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং এই উদ্যোগ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে দুই দেশ একটি সমঝোতায় উপনীত হয়েছে এবং আগামী ১৯ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে সই করার কথা রয়েছে। এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে পাকিস্তান, যা নিয়ে বিশ্বনেতাদের কাছ থেকে প্রশংসা পাচ্ছে দেশটি।

জানা গেছে, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে। আঞ্চলিক বৈরিতা প্রশমনে এই উদ্যোগকে কূটনৈতিক জগতের একটি বড় অর্জন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই চুক্তিকে সংঘাত নিরসনের পথে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি পাকিস্তান, কাতার, মিশর, সৌদি আরব ও তুরস্কসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর গঠনমূলক উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান বলেছেন, ওয়াশিংটন-তেহরান সমঝোতা অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরানোর ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি দুই দেশের নেতৃত্বের পাশাপাশি পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকেও কুর্নিশ জানান।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, লেবানন পরিস্থিতি নিয়েও তার দেশ দীর্ঘদিন উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে আসছিল। তিনি বলেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয় তার প্রভাব তত গভীর হয়, তাই সংযম ও সংলাপই উত্তেজনা রোধের একমাত্র পথ। পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লেখেন, যুদ্ধের সমাপ্তি, অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের এই সাফল্যের জন্য কৃতিত্ব দেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই চুক্তিকে যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সফল ফল বলে বর্ণনা করেন এবং দ্রুত ও পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান, যাতে হরমুজ প্রণালি নিঃশর্তভাবে খুলে দেওয়া সম্ভব হয়।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী এক্স-এ দেওয়া বার্তায় পাকিস্তানসহ অন্যান্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের সমন্বিত উদ্যোগই আলোচনার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইরানি পক্ষকে অভিনন্দন জানান। তার মতে, এই সমঝোতা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন গতি আনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যকে অধিকতর নিরাপদ করবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও অবাধ নৌপথ নিশ্চিত হওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত চূড়ান্ত সমঝোতাও দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বলেন, এই ইতিবাচক চুক্তি উত্তেজনা প্রশমন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার বড় পদক্ষেপ। দীর্ঘমেয়াদি জটিল সমস্যা সমাধানে কূটনীতি ও সংলাপের গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি নিয়ে গঠিত ই-৪ জোট জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ইতিবাচক অগ্রগতি হলে তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে বিবেচনা করতে প্রস্তুত। তবে তারা স্পষ্ট করে বলেছে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের অনুমতি দেওয়া হবে না এবং এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আইএইএ-এর সঙ্গে কাজ করতে তারা প্রস্তুত।

c24newsbd.com

c24newsbd.com

মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, সি২৪ নিউজ বিডি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক। সঠিক সময়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে নিয়োজিত একজন মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং গ্রাফিক ডিজাইনার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *