মমতার বিস্ফোরক দাবি: বাংলাদেশের খুনি ধরেছিল তাঁর এসটিএফ, মুখ বন্ধ রাখতে বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক জনসভায় মমতার বিস্ফোরক দাবি তুলে ধরেছেন যে, বাংলাদেশের একটি হত্যা মামলার মূল আসামি মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করলে তাঁর সরকারের এসটিএফ তাকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু সেই সময় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি তাঁকে ফোন করে বিষয়টি চাপা দিতে বলেছিলেন বলেও তিনি জানান।
মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলায় আয়োজিত জনসভায় মমতা বলেন, বাংলাদেশে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তখন বড় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। নির্বাচনে বিজেপির কাছে হেরে ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম জনসভা।
H2’কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন, সবটাই জানি’
জনসভায় মমতা উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, কেন্দ্রের তদন্ত সংস্থাগুলো—এনআইএ, ইডি ও সিবিআই—দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? আজ সরকার পরিবর্তন হলেও মনে রাখবেন—আমি তো সবটাই জানি।’
মমতা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেই সময় তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এই বিষয়ে কোনো কথা বাইরে না বলে। তিনি দাবি করেন, ‘দেশের স্বার্থে’ এতদিন তিনি বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি। তবে সমর্থকরা নাম প্রকাশের দাবি জানালেও মমতা বলেন, তিনি নামটি বলবেন না, কারণ তাতে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে এবং তিনি তা চান না।
ভারতের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজেপির নেতা অমিত শাহ হলেও মমতা বক্তব্যে সরাসরি তাঁর নাম উল্লেখ করেননি। বক্তৃতায় ‘হোম মিনিস্টার’ শব্দটি ব্যবহার করেই তিনি অভিযোগ তোলেন। ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম ওই বক্তৃতা সরাসরি সম্প্রচার করে।

