আয়াত হত্যা মামলায় আসামি আবিরের ফাঁসির রায়
চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। বুধবার বেলা একটায় ষষ্ঠ অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস প্রধান আসামি মো. আবিরকে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ডের এই আদেশ দেন।
২০২২ সালের নভেম্বরে নগরের ইপিজেড থানা এলাকায় মাত্র পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। পরবর্তী তদন্তে বেরিয়ে আসে নির্মম সত্য—তাদের বাসার ভাড়াটে মো. আবির মুক্তিপণের লোভে শিশুটিকে অপহরণ ও হত্যা করেছিল।
শিশুটির মরদেহ ছয় টুকরা করে ফেলা হয়েছিল
পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর আবির নৃশংসভাবে আয়াতকে হত্যা করে। এরপর মরদেহ ছয় টুকরায় কেটে বস্তাবন্দী করে সাগরপাড় ও খালের ধারে ফেলে দেয় সে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্তের মাধ্যমে ২৫ নভেম্বর আবিরকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সে হত্যার কথা স্বীকারও করে।
তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের অক্টোবরে পিবিআই মো. আবির এবং তার এক কিশোর বন্ধুকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। কিশোর আসামির বিচার পৃথক শিশু আদালতে চলছে।
রায়ে আবিরকে হত্যার দায়ে ফাঁসি ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তিন মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এই জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে লাশ গুম করার দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণায় আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এই ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত, নিষ্ঠুর ও নির্মম—যা সমাজে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে।
রায়ের পর আয়াতের বাবা সোহেল রানা বলেন, “রায়ে খুশি হয়েছি। চাই, এই ফাঁসির আদেশ যেন দ্রুত কার্যকর হয়—তা না হলে এমন অপরাধীরা আরও সাহস পাবে।”
রায় ঘোষণার সময় আদালত ভবনে আয়াতের স্বজন ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে উত্তেজনা ছিল। স্বজনেরা ব্যানার হাতে আসামির ফাঁসি দাবি জানান।

