মার্কিন সেনা পলায়ন: ইরানের হামলায় বাহরাইন ঘাঁটি ছাড়তে বাধ্য
ইরানের মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা পলায়নের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক সংঘাতের ক্ষতচিহ্ন এখনো বহন করছে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো।
বাহরাইনে অবস্থিত ‘নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি বাহরাইন’ মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের প্রধান কার্যালয় হিসেবে বিবেচিত। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌ-অভিযান পরিচালনার অন্যতম প্রধান কমান্ড সেন্টার এটি। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের বাইরে এটি দেশটির সবচেয়ে কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলোর একটি।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে জুন মাস পর্যন্ত ইরান একাধিকবার এই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করে। উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করা গেলেও বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেদ করে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।
ঘাঁটির প্রধান কমান্ড হেডকোয়ার্টারেও লাগে আঘাত
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় ঘাঁটির প্রধান কমান্ড হেডকোয়ার্টার, কমপক্ষে এক ডজন ভবন এবং সামরিক বাহিনীর দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো প্রকাশ করেনি পেন্টাগন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হামলার তীব্রতা বাড়ার আগেই অধিকাংশ সেনাসদস্য ও কর্মকর্তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যার ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, অবকাঠামো রক্ষার চেয়ে সেনাসদস্যদের জীবন বাঁচানোকেই তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, পুরো সংঘাতে ইরান ৮ হাজারেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। এত বিশাল হামলার বিপরীতে মাত্র দুটি পৃথক ঘটনায় মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা তাদের কৌশলের সাফল্য হিসেবে দেখছে পেন্টাগন।
ইরানের এই হামলা মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ এতে প্রমাণিত হয়েছে, তুলনামূলক কম খরচে নির্মিত ইরানি অস্ত্র দিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপের মুখে ফেলা সম্ভব।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের কাছাকাছি বড় ও স্থায়ী সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে নতুনভাবে ভাবছে ওয়াশিংটন। এক জায়গায় বিপুল সংখ্যক সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের পরিবর্তে বিভিন্ন ঘাঁটিতে বাহিনী ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত ও শক্তিশালী করার উদ্যোগও জোরদার হচ্ছে।

