ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্পে লক্ষাধিক মৃত্যুর শঙ্কা, জাপান-ক্যালিফোর্নিয়াও কাঁপল
বিশ্বজুড়ে একদিনেই তিন দেশ ভূমিকম্পের কবলে পড়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায়, যেখানে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস।
ইউএসজিএসের তথ্যমতে, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে রাজধানী কারাকাস থেকে ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭.২ মাত্রার প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয়। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পরেই ইউমারের কাছে ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় আঘাত আসে, যার উৎপত্তি ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
ট্রুহিলো, কারাবাও, মিরান্ডা ও লা গুয়াইরাসহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। একের পর এক বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। ইউএসজিএস জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বেশিরভাগ ভবন রিইনফোর্সড ইট ও মাটির ব্লক দিয়ে তৈরি হওয়ায় মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়ানোর ৩০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে।
জরুরি অবস্থা, বিমানবন্দর বন্ধ, মেট্রো স্থগিত
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। মাইকেতিয়ার সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল, মেট্রো ও রেলসেবাও। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৬.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। কুজি থেকে ৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং ৫১.৭ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই কম্পনে তাৎক্ষণিক কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সুনামির কোনো আশঙ্কাও নেই বলে জানিয়েছেন মুখ্য মন্ত্রিসভা সচিব মিনোরু কিহারা। তবে বুলেট ট্রেন পরিষেবা সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড ভ্যালিতে ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে মেন্ডোসিনো কাউন্টির প্রায় ৭ হাজার ৪০০ বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইউরেকা থেকে স্যাক্রামেন্টো পর্যন্ত দূরবর্তী এলাকার মানুষও কম্পন অনুভব করেছেন।

