রামিসা হত্যা মামলা রায়: সোহেলের ৫ লাখ, স্বপ্নার ২ লাখ জরিমানা
ঢাকার মিরপুর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু **রামিসা হত্যা মামলার রায়** ঘোষণা করেছেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। রোববার (৭ জুন) বিচারক মাসরুর সালেকীন দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে আসামি সোহেলকে পাঁচ লাখ এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই জরিমানার অর্থ পাবেন রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীরা। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে কালেক্টরেট অফিসকে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে বিক্রির মাধ্যমে ওয়ারিশদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মাত্র ১৯ দিনে বিচার সম্পন্ন
গত ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশ। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেলকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২৫ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন এবং মামলাটি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। মাত্র একদিনে ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হয় ২ জুন। ৩ জুন আসামিদের দণ্ডবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা করা হয়। হত্যার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা এই মামলাকে দেশের দ্রুততম শিশু নির্যাতন বিচারের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। রামিসার বাবা পরিবারসহ পল্লবীর সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে থাকতেন এবং বনানীতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। আসামি সোহেল ও স্বপ্নাও একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। ভুক্তভোগী শিশু রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

