লাইফস্টাইল

মানসিক চাপ ও ত্বক: ব্রণ ও চর্মরোগের অজানা সংযোগ

স্ট্রেসের কারণে হঠাৎ একজিমা বেড়ে যাওয়া বা মুখে ব্রণের প্রকোপ দেখা দেওয়া — এ অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। তবে এটি কাকতালীয় নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, মানসিক চাপ ও ত্বকের স্বাস্থ্যের মধ্যে রয়েছে এক গভীর ও সরাসরি বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক।

লন্ডনের সাইকোডার্মাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. আলিয়া আহমেদ জানান, শারীরিক ও মানসিক — দুই ধরনের চাপই ত্বকে প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলে। তাই আধুনিক চিকিৎসায় চিকিৎসকরা এখন শুধু শারীরিক লক্ষণ নয়, রোগীর ঘুম, মানসিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের ধরনও বিবেচনায় নেন।


মস্তিষ্ক ও ত্বকের সংযোগ যেভাবে কাজ করে

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, মায়ের গর্ভে ভ্রূণ অবস্থায় মস্তিষ্ক ও ত্বক একই ধরনের কোষ থেকে তৈরি হয়, তাই দুটির মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই গভীর যোগাযোগ থাকে।

মানসিক চাপের মুহূর্তে মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা সক্রিয় হয়ে হাইপোথ্যালামাসে সংকেত পাঠায়। এর ফলে রক্তে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা শরীরে প্রদাহ তৈরি করে ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়।

এর সরাসরি পরিণতি হিসেবে ত্বক আর্দ্রতা হারায়, অ্যালার্জেনের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং অতিরিক্ত সেবাম বা তেল উৎপাদনের কারণে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ দেখা দেয়। একই সঙ্গে ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সংক্রমণের শঙ্কাও বাড়ে।

চিকিৎসকরা এই পরিস্থিতিকে একটি দুষ্টচক্র বলে চিহ্নিত করেছেন — ত্বকের সমস্যা মানসিক চাপ বাড়ায়, আর সেই চাপ আবার ত্বকের অবস্থা আরও খারাপ করে তোলে।

এই চক্র ভাঙতে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রজিতা সিনহা নিয়মিত ব্যায়াম ও মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশনের পরামর্শ দেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়াম কর্টিসলের মাত্রা কার্যকরভাবে কমায় এবং মেডিটেশন মস্তিষ্ককে চাপ সামলানোয় আরও দক্ষ করে তোলে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাঁটার সময় মনকে শিথিল রেখে ওয়াকিং মেডিটেশন চর্চাও বেশ উপকারী। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ত্বকের বাহ্যিক যত্ন দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ ও ত্বকের পরিচর্যা — এই দুটি একসঙ্গে মেনে চললেই কেবল স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে মত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

c24newsbd.com

c24newsbd.com

মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, সি২৪ নিউজ বিডি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক। সঠিক সময়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে নিয়োজিত একজন মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং গ্রাফিক ডিজাইনার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *