এমবোলো লাল কার্ড: আর্জেন্টিনা ম্যাচে রেফারিং বিতর্ক
বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনার ম্যাচ ঘিরে রেফারিং বিতর্ক যেন থামছেই না। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে এমবোলো লাল কার্ড পাওয়ার ঘটনা। এর আগে মিশরের বিপক্ষে রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচেও রেফারিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়েছিল।
ম্যাচের ৭২ মিনিটে দুই দল যখন ১-১ গোলে সমতায়, তখনই ঘটে বিতর্কিত ঘটনাটি। আর্জেন্টিনার অর্ধে সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে ফাউল করার অভিযোগে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হয় আর্জেন্টিনার লেয়ান্দ্রো পারেদেসকে। তবে রেফারি মাঠের পাশের মনিটরে সিদ্ধান্ত রিভিউ করে নিজের রায় বদলে ফেলেন এবং পারেদেসের বদলে হলুদ কার্ড দেখান এমবোলোকে নিজেকে।
নতুন নিয়মে যেভাবে লাল কার্ড দেখলেন এমবোলো
এই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কার্যকর হওয়া ফিফার ‘মিসটেইকেন আইডেন্টিটি রুল’ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়। এই নিয়মে বলা আছে, কোনো খেলোয়াড় ভুলবশত হলুদ বা লাল কার্ড দেখলেও, প্রকৃত ফাউলকারী শনাক্ত হলে রেফারি সিদ্ধান্ত সংশোধন করতে পারবেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে ম্যাচেও এই নিয়মের প্রয়োগ দেখা গিয়েছিল।
যেহেতু এটি ছিল এমবোলোর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড, তাই স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। মাঠ ছাড়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন এই সুইস ফরোয়ার্ড। এরপর দশজনের দল নিয়ে খেলা সুইজারল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ম্যাচে ফিরতে পারেনি। নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের গোলে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
বিশ্লেষকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে দেখা যায় ভিন্নমত। সাবেক ফরোয়ার্ড ব্র্যাডলি রাইট-ফিলিপস এমবোলোর সতীর্থদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করলেও নিজে এমবোলোর কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেননি। অন্যদিকে সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধিনায়ক রয় কিন প্রশ্ন তুলেছেন সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নিয়ে—তার মতে, আগের ম্যাচগুলোতে একই ধরনের ঘটনায় কার্ড না দেখানো হলে এখানে দেখানোটাও যুক্তিসংগত নয় বলে মনে করছেন তিনি।
তবে বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ, বিশেষত সাবেক ফরাসি তারকা থিয়েরি অঁরি, এমবোলোর আচরণের কড়া সমালোচনা করেছেন। তার মতে, ফাউল আদায়ের জন্য নাটকীয়ভাবে পড়ে যাওয়ার এই প্রবণতা খেলার স্পিরিটের পরিপন্থী।

