ইরানি তেলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র, ৬০ দিনের চুক্তির পথে
সুইজারল্যান্ডে ঐতিহাসিক বৈঠকের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইরানি তেলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য উৎপাদন, বিক্রি এবং সরবরাহ করতে পারবে।
লুইসার্ন হ্রদের তীরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ টানা ১৮ ঘণ্টা আলোচনায় বসেন। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরিচালিত এই আলোচনায় উভয়পক্ষ ‘উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি’র কথা জানিয়েছে।
৬০ দিনে চূড়ান্ত চুক্তির রূপরেখায় ঐকমত্য
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, ইরান দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রথমত, হরমুজ প্রণালিতে সব বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা এবং দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় প্রবেশাধিকার দেওয়া।
মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতার নিশ্চিত করেছে, দুপক্ষ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর রূপরেখায় একমত হয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বৈঠকটিকে ‘বড় অগ্রগতি’ বলে বর্ণনা করেন এবং জানান, আইএইএ পরিদর্শকরা শিগগিরই ইরানে ফিরে যাবেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দামের চাপ কমাতে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

