ব্রাজিল মরক্কো ড্র: বিশ্বকাপে নিষ্প্রভ সেলেসাওরা
বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নিজেদের প্রথম লড়াইয়েই প্রত্যাশিত শুরু করতে পারল না পাঁচবারের শিরোপাজয়ী ব্রাজিল। আলোচিত এই ম্যাচে ব্রাজিল মরক্কো ড্র করেছে ১-১ গোলে, যেখানে সেলেসাওদের খেলায় স্পষ্ট ছিল ছন্দের অভাব, রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং আক্রমণে সমন্বয়হীনতা।
দলের পক্ষে এদিন একমাত্র উজ্জ্বল মুখ ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। গোল করার পাশাপাশি আক্রমণভাগের পুরো দায়িত্বও কার্যত একাই কাঁধে তুলে নেন তিনি। অথচ দলের বাকি বেশিরভাগ ফুটবলারই নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেননি।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে নিজস্ব রেটিং প্রকাশ করেছে বিবিসি স্পোর্ট। সেই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রথমার্ধে দল যখন স্নায়ুচাপে ভুগছিল এবং খেলায় ছন্দ আনতে পারছিল না, তখন প্রতিপক্ষের রক্ষণ একক প্রচেষ্টায় ভেঙে দুর্দান্ত এক গোল করেন ভিনিসিয়ুস। তবে দ্বিতীয়ার্ধে তার পারফরম্যান্সের গ্রাফ কিছুটা নিচের দিকে নামে।
খেলোয়াড়দের রেটিংয়ে কে কোথায়
মাঠের বিভিন্ন পজিশনে খেলা রাফিনিয়া পাস ও বল কন্ট্রোলে একাধিক ভুল করেন এবং একটি সহজ সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি, ফলে তার সামগ্রিক পারফরম্যান্স হতাশাজনক হিসেবেই বিবিসির রেটিংয়ে উঠে আসে। অন্যদিকে নাম্বার নাইন জার্সিতে খেলা ম্যাথেউস কুনিয়া স্ট্রাইকারের চিরাচরিত ভূমিকার বাইরে গিয়ে রক্ষণেও কার্যকর ভূমিকা রাখেন এবং ভিনিসিয়ুসের জন্য একটি বিপজ্জনক সুযোগ তৈরি করেন।
মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারায়েস ম্যাচের শুরুতেই একটি বিপজ্জনক শট ব্লক করার পর ভিনিসিয়ুসের গোলে অ্যাসিস্ট জোগান। তবে শেষদিকে ক্লান্তিতে তাকে বদলি করে নামানো হয়। অধিনায়ক মারকিনিয়োস রক্ষণের সমস্যার মধ্যেও তুলনামূলক স্থির পারফরম্যান্স দেখান, যেখানে তার পাস সাফল্যের হার ছিল প্রায় শতভাগের কাছাকাছি।
গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার মরক্কোর গোলের সময় কিছুটা দেরিতে প্রতিক্রিয়া দিলেও ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে হারের হাত থেকে রক্ষা করেন। রক্ষণে রজার ইবানিয়েস ও মাঝমাঠে কাসেমিরো উভয়েই হলুদ কার্ড দেখে বিরতির পর মাঠ ছাড়েন, যা ছিল দলের জন্য এক বড় ধাক্কা।
কোচ আনচেলত্তির কৌশল ও পরিবর্তন
শুরুর একাদশে কয়েকটি চমক দিয়েও প্রথমার্ধে দলকে কাঙ্ক্ষিত ছন্দে আনতে পারেননি ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে বিরতির পর কাসেমিরো ও ইবানিয়েসকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দলের খেলায় কিছুটা প্রাণ ফিরিয়ে আনে। বিশ্লেষকদের একটি অংশের মত, রাফিনিয়ার পরিবর্তে এন্দ্রিককে নামানো হলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখনো রক্ষণে ভঙ্গুরতা এবং আক্রমণে কার্যকর সমন্বয়ের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেনি ব্রাজিল।

