অনার্স কোর্স বাতিল: বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিদায়, আসছে এআই ও সাইবার সিকিউরিটি
দেশের উচ্চশিক্ষাকে সনদনির্ভরতার বৃত্ত থেকে বের করে এনে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানমুখী করতে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন খসড়া মডেল অনুযায়ী বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনসহ মোট ছয়টি বিষয়ের অনার্স কোর্স বাতিল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাতিল হওয়া বিষয়গুলো অন্যান্য কোর্সের সঙ্গে একীভূত করা হবে।
একই সঙ্গে কারিগরি ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ের পরিসর বাড়ানো হচ্ছে। পাঠ্যক্রমে নতুনভাবে যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার সিকিউরিটি, আউটসোর্সিং এবং দক্ষতাভিত্তিক আরও বেশ কিছু প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়।
কলেজ পর্যায়েই শুরু হবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, প্রতিষ্ঠা করা হবে ক্যারিয়ার সেন্টার এবং শিক্ষার্থীদের সাতটি বিদেশি ভাষা শেখানোর সুযোগ তৈরি করা হবে বলে জানা গেছে।
উচ্চশিক্ষায় সংস্কার: কেন এই পরিবর্তন?
শিক্ষাবিদরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা কর্মবাজারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। ফলে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ক্রমশ বাড়ছে। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, গত ১৩ বছরে উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের হার আট গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশের ৮৫ শতাংশ কর্মসংস্থানই এখনো অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে।
এই বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সনদনির্ভর শিক্ষার বদলে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, লক্ষ্য শুধু ডিগ্রিধারী নয়, দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ তৈরি করা।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহও জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানমুখী করে গড়ে তুলতে বড় সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় সংখ্যা এবং পরীক্ষা গ্রহণের কর্মদিবসও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এ লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক ধারণাপত্র ও কর্মপরিকল্পনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। বর্তমানে এসএসসিতে ২৫ থেকে ৩০ কর্মদিবস এবং এইচএসসিতে ৩০ থেকে ৩৫ কর্মদিবস বা তারও বেশি সময় পরীক্ষায় ব্যয় হয়, যা হাজার হাজার স্কুলের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত করে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালে বিদ্যমান শিক্ষাক্রম যথাযথভাবে পরিমার্জন করে দেওয়া হবে এবং ২০২৮ সাল থেকে চালু হবে সম্পূর্ণ নতুন শিক্ষাক্রম। নতুন এই কারিকুলামে ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’সহ চারটি নতুন বিষয় যুক্ত হবে।

