জলাবদ্ধতা চট্টগ্রাম: টানা বৃষ্টিতে ডুবল পুরো নগরী
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলকে কার্যত অচল করে দিয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের প্রভাবে নগরজুড়ে পানি জমে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা—মাত্র তিন ঘণ্টায়—৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, সাগরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের আশঙ্কায় পৃথক সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
আমবাগান আবহাওয়া কেন্দ্রের ইনচার্জ বিজন রায় জানান, একই সময়ে আমবাগান এলাকায় ২৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নিম্নাঞ্চলে পানিবন্দি জনজীবন
ভারী বর্ষণে পতেঙ্গা, আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, মোহরা ও হালিশহরসহ নগরের একাধিক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়কে জমে থাকা পানির কারণে যান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। গণপরিবহনের সংখ্যা কমে গেছে, ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচলও কম দেখা গেছে।
অফিসগামী মানুষ, বিমানবন্দরমুখী যাত্রী, পথচারী এবং দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সিটি করপোরেশনের বক্তব্য
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, পাহাড়ি ঢলের কারণে পানি দ্রুত নামতে পারছে না। তবে বৃষ্টির মধ্যেও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ড্রেন ও নালা পরিষ্কারের কাজ অব্যাহত রেখেছেন এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
সকালে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পরিদর্শনে বের হন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, বৃষ্টি কমে এলে পানি দ্রুত নেমে যাবে এবং করপোরেশন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষায়, পাহাড়ি ঢলের কারণেই এই সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

