আরাঘচি: তেল আবিবের ‘পোষা প্রাণীদের’ সামলান ওয়াশিংটন
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনেয়ীকে নিয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দেওয়া বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, যিনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে বার্তা দিয়েছেন — আরাঘচি ইসরায়েল প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের উচিত তেল আবিবে থাকা তাদের মিত্রদের রাশ টেনে ধরা।
সম্প্রতি একটি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেয়ী এখন ‘মৃত্যু-তালিকায়’ অন্তর্ভুক্ত। এই আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পরপরই তেহরান থেকে তীব্র হুঁশিয়ারি আসে।
‘মালিকের কথা অমান্য করলে শিক্ষা দেওয়া হবে’ — আরাঘচি
এক লিখিত বিবৃতিতে আরাঘচি স্পষ্ট ভাষায় জানান, দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া বোঝাপড়ার (সমঝোতা স্মারক) শর্তগুলো সবার কাছেই সুস্পষ্ট। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই তেল আবিবে থাকা তার মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কেউ যদি সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে আচরণ করে, তাহলে তেহরান তার যথাযথ জবাব দিতে প্রস্তুত বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এর আগে সোমবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ ইরানকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন যে, ইরানিরা দক্ষ দরকষাকষিতে পারদর্শী এবং তারা আলোচনার টেবিল থেকে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা
এই মন্তব্যের পাল্টা জবাবে আরাঘচি জানিয়ে দেন, ইরানি জনগণ ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হুমকি এলে তার তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই বাক্যযুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

