জার্মানিকে বিদায় করায় প্যারাগুয়েতে জাতীয় ছুটি ঘোষণা
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে প্যারাগুয়ে, আর এই ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপনে দেশজুড়ে এক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। ফুটবল বিশ্বকাপের এই জার্মানিকে বিদায় করার ঘটনা গোটা প্যারাগুয়েবাসীর জন্য পরিণত হয়েছে জাতীয় গর্বের উপলক্ষে।
বোস্টনে অনুষ্ঠিত শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ১-১ গোলে সমতায় ছিল দুই দল। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে বাজিমাত করে লা আলবিরোহারা খ্যাত প্যারাগুয়ে দল, যা চারবারের শিরোপাজয়ী জার্মানদের জন্য আসর থেকে বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ও পুরোনো ক্ষত নিরাময়
শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, এই সাফল্য প্যারাগুয়ের জন্য বহু বছরের প্রতীক্ষার অবসানও বটে। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে টানা তিনবার অংশই নিতে পারেনি দক্ষিণ আমেরিকার এই দলটি। দীর্ঘ এক যুগ পর বিশ্বমঞ্চে ফিরেই প্রথম নকআউট পর্বে জার্মানদের হারিয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করল তারা।
এই জয় আরও একটি কারণে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ২০০২ সালের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল প্যারাগুয়েকে। দুই যুগেরও বেশি সময় পর বোস্টনের মাঠে সেই পুরোনো হিসাব যেন উল্টে দিল দলটি।
প্রেসিডেন্টের ঘোষণা ও জাতীয় উদযাপন
জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) সরকারি ছুটির নথিতে স্বাক্ষর করার মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট পেনা। সেখানে তিনি লেখেন, আজ সমগ্র জাতি উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, এই বিজয় এমন একটি দলের অর্জন, যারা দেশের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরেছে—অদম্য জেদ, আত্মবিশ্বাস ও কখনো হাল না ছাড়ার মানসিকতার প্রতিফলন এটি। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অর্জন কেবল খেলার মাঠের সাফল্য নয়, বরং পুরো জাতির একসঙ্গে উদযাপনের সুযোগ, আর সে কারণেই এই বিশেষ ছুটির ঘোষণা।
উল্লেখ্য, চলতি বিশ্বকাপে জার্মানিকে হারানোর সুবাদে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা দ্বিতীয় দক্ষিণ আমেরিকান দেশ হলো প্যারাগুয়ে। এর আগে গ্রুপ পর্বে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করার পর ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়াও একই ধরনের ছুটি ঘোষণা করেছিলেন।

