শিবির নেতা জিসান ধর্ষণ মামলায় আসামি, আত্মগোপনের রহস্য ফাঁস
শিবির নেতা জিসান ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি হয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান। কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কোনো অপহরণ ঘটেনি — বরং এক বিধবা নারীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলার মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।
শনিবার (১৪ জুন) রাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য প্রকাশ পায়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুন জিসানের চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে উল্লেখ ছিল, ১১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন।
জিডি পাওয়ার পর জেলা পুলিশের একাধিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান শুরু করে এবং একপর্যায়ে বিস্ময়কর তথ্য উঠে আসে।
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, তারপর ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ
পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়।
গত ২০ মে দাউদকান্দিতে জিসানের ভাড়া করা বাসায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে একাধিকবার একই প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
এরপর তাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে চাপ দেওয়া হয় এবং ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়ে করবেন বলে কথা দেন। কিন্তু বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে থানায় জিডি করান বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে।
শুক্রবার (১৩ জুন) রাত পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম জংশন রোড এলাকায় স্থানীয়রা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে লাকসাম থানা পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। উদ্ধারের পর জিসান দাবি করেন তাকে অপহরণ করা হয়েছিল, তবে তদন্তে অপহরণের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
জিসানকে উদ্ধারের পর ওই নারী দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় জিসানকে প্রধান আসামি করে মোট চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা, ভ্রূণ নষ্ট এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, তদন্তে প্রাথমিকভাবে স্পষ্ট হয়েছে যে জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি। এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার জেরে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। মামলার অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

